মো:নয়ন সরদার শার্শা প্রতিনিধি :


আমরা সকলেই সাধারণত বুঝি কবি সেই ব্যক্তি বা সাহিত্যিক যিনি কবিত্ব শক্তির অধিকারী এবং কবিতা রচনা করেন। একজন কবি তাঁর রচিত ও সৃষ্ট মৌলিক কবিতাকে লিখিত বা অলিখিত উভয়ভাবেই প্রকাশ করতে পারেন। একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট, ঘটনাকে রূপকধর্মী ও নান্দনিকতা সহযোগে কবিতা রচিত হয়। কবিতায় সাধারণত বহুবিধ অর্থ বা ভাবপ্রকাশ ঘটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধারায় বিভাজন ঘটানো হয়। সে ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যিনি কবিতা লিখেন, তিনিই কবি। তবে বাংলা ভাষার প্রধানতম আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি”। অর্থাৎ কবিতা লিখলেই বা কবি অভিধা প্রাপ্ত হলেই কেউ “কবি” হয়ে যান না। একজন প্রকৃত কবির লক্ষণ কী তা তিনি তাঁর কবিতার কথা নামীয় প্রবন্থ গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আজ পরিচিত হবো এমন একজন নবীন কবি যিনি ছোট্ট কিশোর বয়স থেকে হাটি হাটি পা পা করে তার লেখনি চর্চায় সফল হয়েছেন। কবি কবি চেহারায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই যেন লেখনিতে কাটে তার। বলছিলাম এমন এক প্রতিভাবান কবি ইউসুফ আউলিয়ার কথা। ১জানিয়ারি ১৯৯০ সালে যশোরের শার্শা উপজেলার বালুন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন এই গুনি মানুষটি। পিতা হাজি বাহার আউলিয়া ও মাতা ফাতেমা খাতুনের সন্তান তিনি। পরিবাবরে ৫ ভাই বোনের মধ্যে কবি ইউসুফ আউলিয়া পঞ্চম। জীবন চলার পথে অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে এতদূর পর্যন্ত এসেছেন তিনি। লেখা পড়ার পাশাপাশি ক্লাস সেভেনে অধ্যায়নরত থাকা সময় থেকে কবির লেখালেখির আত্মপ্রকাশ ঘটে। দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় প্রথম কবিতা “স্বাধীনতা” যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়াও দেশ এবং দেশের বাইরেও বিভিন্ন পত্রিকায় কবির লেখা প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা পরিচিতি লাভ করে ইউসুফ আউলিয়ার। ধীরে ধীরে কবিতা, ছড়ার পাশাপাশি লিখেছেন গল্প, উপন্যাস। ২০০৬ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পাশ করেন নিজ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০০৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন এবং ২০১৩ সালে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করেন বাগআঁচড়া আফিল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে। যশোর এম এম কলেজ থেকে ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর পাশ করে এখন বেনাপোল মডেল স্কুলে শিক্ষাকতা করছেন। ছড়া, কবিতা, উপন্যাসের পাশাপাশি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ “মেঘকণ্যা তুমি কেঁদো না” ২০১৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রতিভা প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালে একুশে বই মেলায় পায়রা প্রকাশনা প্রকাশিত হয় “ঝরাপাতার নৈঃশব্দ্য ” এবং “মেঘের পালক”। এই ভাবে তিনটি একক এবং তিনটি যৌথ প্রকাশনার বই প্রকাশ হওয়ার পরেই তার ঝুলিতে তুলে নিয়েছেন চিরকুট সাহিত্য পদক, সম্মাননা স্মারক, বাংলাদেশ কাব্যচন্দ্রিকা সাহিত্য পদক পুরস্কার। তরুণ কবি ইউসুফ আউলিয়া বলেন, আগামীতে যেন পাঠকের হাতে আরো নতুন নতুন লেখা উপহার দিতে পারি তার জন্য পাঠকের কাছে একান্ত ভালবাসা ও দোয়া কামনা করছি।

Sharing is caring!