মো:নয়ন সরদার, শার্শা প্রতিনিধি:


অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন শার্শা উপজেলার নিজামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব নাসির উদ্দীন। করোনার সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলে চালুর লক্ষণ নেই। দেশের অন্য খাতের মতো শিক্ষা খাতেও এখন ভঙ্গুর দশা। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি নির্দেশনায় সারা দেশে কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। এর মধ্যে যশোর শার্শা উপজেলার নিজামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অন্যতম।

২০শে এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়টির প্রায় শিক্ষক অনলাইন ক্লাস শুরু করেন। গত চার মাসে তাঁরা অনেকগুলো অনলাইনে ক্লাস নেন। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দীন সম্পাদন করেন প্রায় ২০ টি ক্লাস। এপ্রিল থেকে তিনি ক্লাস শুরু করেন। গত মঙ্গলবারও তিনি একটি ক্লাস নেন।

তিনি ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি অনেকগুলো অনলাইন ক্লাসের ভিডিও বিভিন্ন পেজে আপলোড করেছেন।

শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, করোনা মহামারিতে সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে। কিন্তু তাঁরা (শিক্ষক) ঘরে বসে থাকতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতিদিন একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে। অনলাইনে যেসব শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতে পারছে, তারা উপকৃত হচ্ছে। নানা কারণে যেসব শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস ধরতে কিংবা অংশ নিতে পারছে না, তাদের জন্য ক্লাসের ভিডিও আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। পেজ থেকে ভিডিও নামিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০০শত এর বেশী শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী ভিডিও সংগ্রহ করেছে।

বিদ্যালয়ে অভিবাবক সদস্যরা বলেন, করোনা মহামারিতেও টানা চার মাসে একাধারে ২০-৩০টি অনলাইন ক্লাস করে শিক্ষক নাসির উদ্দীন স্থাপন করেছেন। শিক্ষকতার মহান পেশাকে তিনি সমুজ্জ্বল রেখেছেন। তাঁর মতো এত বেশিসংখ্যক অনলাইন ক্লাস নেওয়ার নজির উত্তর শার্শার সম্ভবত অন্য কোনো শিক্ষকের নেই।

যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর টু শার্শার মূল সড়কের পাশে এলাকায় সবুজ অরণ্যে ঘেরা নিজামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অবস্থান। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়েহ শিক্ষার্থী প্রায় ৫শ জনের বেশি।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা। তবে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের কমিটি ও অভিবাবক সদস্য ঘুরে ঘুরে সেসব ক্লাসের তদারক করছেন। একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় জনাব নাসির উদ্দীনকে। তখন তিনি – ৮ম – ১০ম শ্রেণীর ইংরেজী ক্লাস ক্লাস নিচ্ছিলেন।

Sharing is caring!